বাইলাকূপ ভ্রমন

বেড়ানো  আমার একটা নেশা ,,,,সেটা একদিনের জন্য হ‌উক বা কিছুদিনের জন্য হউক তাতে কোন অসুবিধা নেই ,,,,,বেড়াতে যেতে পারলেই হলো,,,,,কিছুদিন হয়ে গেলে মনের ভিতর যেনো কেমন করে ইস,,,একটু যদি কোথাও  ঘুরতে যাওয়া হয় মন্দ হয় না,,  
এই বছর মে মাসে একটা ট্যুর ছিলো সবাই মিলে বেড়াতে যাওয়ার ,কিন্ত  করোনার তান্ডবলীলায় সব পন্ড হয়ে গেলো,,,,,,, বেড়াতে তো যেতে পারবো কিন্ত এখন সব থেকে যেটা সেটা হলো সবার সুস্থ কামনা,  সবাই একটা সুস্থ জীবনে ফিরে আসুক এটাই ঠাকুরের কাছে প্রার্থণা।

দুদিনের ভ্রমন..…..."বাইলাকূপ " বৌদ্ধ গোল্ডেন টেম্পল।
নতুন বছরের আগমন ,চারিদিকে সবাই পার্টি ,পিকনিক আড্ডা এইসব নিয়ে ব্যাস্ত সবাই,,, তার‌উপর ব্যাঙ্গালোরের রাস্তা ঘাটে  দম বন্ধ ট্রাফিক  ,,,,, তখন আমার  মনে হলো  চলো না যাই কোলাহল মুক্ত শহর থেকে দূরে কোথাও একটু ঘুরে আসি,,,সেইঅনুযায়ী প্লান করা হলো  বাইলাকূপ যাওয়ার ।
১৯শে জানুয়ারী ভোর ৫টায় উঠে স্নান সেরে এককাপ চা বিস্কিটখেয়ে বাইলাকূপের জন্য র‌ওনা হোলাম,,, ৪ঘন্টার রাস্তা ,,,,,  রাস্তাতে কোথাও ব্রেকফাষ্টটা সেরে নেবো,,,,তাই ৮টার মধ্যে বেড়িয়ে পড়েছি কারন  ৪.৩০  বৌদ্ধ টেম্পল বন্ধ হয়ে যাবে  ,চার ঘন্টা লাগে ব্যাঙ্গালোর থেকে......  গাড়ী আমাদের ছুটে চলেছে, সেই বিশাল হাইওয়ে  ,নীল আকাশ সুন্দর‌ এক পরিবেশ,,,,, খুব আনন্দ হচ্ছিল ,পুরো পরিবার সাথে নিয়ে বেড়ানোর মজাটাই আলাদা,,,,,,সকাল এগারোটায় ভালো রেষ্টুরেন্ট দেখে ব্রেকফাষ্টটা  সেরে নিলাম ,সাথে  একটু জল বিস্কুট ,চিপস‌ কিছু টুকটাক সাথে নিয়ে গাড়ী আবার স্টার্ট হল,,,,, এক অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছিলো চারিদিকের পরিবেশ ও রাস্তা ঘাট গুলো দেখে  ,,,,,  যেতে যেতে এক জায়গায় চোখে পড়লো কিছু ডাব নারকেল,,,,আবার একটু গাড়ী থামিয়ে সবাই মিলে ডাবের জল খেলাম,,,,,,জলের থেকে বেশী মালাইটা খেতে আমি বেশী পছন্দ করি,,,গলাটা ভিজিয়ে নেওয়া হলো,,জানুয়ারী মাস ছিলো তথাপি প্রচন্ড একটা গরম ভাব ছিলো  ,,বলেছিলাম ড্রাইভার নিয়ে নে  না, ছেলে বললো না আমিই যাবো  ড্রাইভ করে,,, তাই একটু রেষ্ট নিয়ে যাওয়া,,,  অনেকটা পথ এখন‌ও বাকি আছে,,,,,,এবার আর কোথাও থামা হবে না একদম  গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে,,,,, দুপর তিনটের মধ্যেই আমরা বাইলাকূপ পৌঁছে গেলাম,,,,,, এক মনমুগ্ধকর  শান্ত পরিবেশ ,,,,,, সবুজ গাছপালা  ট্যুরিষ্টদের জন্য দেখলাম কিছু দোকান পাট সাজানো আছে ,,,,, একবার ভেবেছি একটু ঢুকে দেখি কিন্ত আমার কর্তা আর ছেলের জন্য উপায় নেই  এখন অনেক দেরী হয়ে যাবে আগে ভিতর ঘুরে আসি তারপর দেখা যাবে ,,,,
চারিদিকে দেখলাম লামারা ঘুরছে ,,,অনেক ট্যুরিষ্ট গাড়ীও চোখে পড়লো,,,,,,,একদমেই অন্যরকম এক পরিবেশ,,,,   একদিনে এসে ঘুরে যাওয়া সম্ভব না তাই   ছেলে আগের থেকেই হোটেল বুক অরে রেখেছিলো,,,,,তাই আর চিন্তা নেই, ,, হাতে সময় নিয়ে আমরা মনের আনন্দে  চারিদিকটা ঘুরে দেখলাম ,,, অনেকটা সময় কাটিয়ে সন্ধ্যা হ‌ওয়ার পর হোটেলে এসে সবাই বিশ্রাম করে পরের দিন সকালে ব্রেকফাষ্ট সেরে আবার ব্যাঙ্গালোরের জন্য র‌ওনা হোলাম,,,  বাইলাকূপ যেতে রাস্তায় মাইশোরটা পড়ে তাই  আসার পথে  মাইশোর প্যালেসটাও আরেকবার দেখা হয়ে গেলো,,,,,বিকেল ৬ টায় আমরা  আবার ব্যাঙ্গালোর পৌঁছে গেলাম।
এই হলো আমার একদিনের বাইলাকূপ  গোল্ডেন বৌদ্ধ টেম্পল ভ্রমন কাহিনী।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময় বা পরিস্থিতি মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয় ,,,,কিন্ত অনেক সময় সময়ের উপর সব ছেড়ে দেওয়া টাও বোকামি বলে মনে হয়,,

মূল্যবোধ

সব ভালোবাসার নাম হয় না